চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার আলোচিত প্রতারক ভুয়া রিপোর্টার বেলাল শেষ পর্যন্ত জনতার হাতে কট।
সাবেক ছাত্রলীগ, বর্তমান ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের’ খোলসে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে গড়ে তোলেন নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নেটওয়ার্ক। অভিযোগ রয়েছে, বেলাল দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি, হয়রানি মূলক মিথ্যা মামলা ও ব্ল্যাকমেইল করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়েছেন।
বেলালের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ছাত্রলীগের ব্যানারে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে গিয়ে তিনি নিজেকে পরিচিত করতে থাকেন ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা’ হিসেবে। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এক ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্র। নিজস্ব কিছু কথিত অনলাইন পত্রিকা এবং ফেসবুক পেজে ভুয়া সংবাদ প্রকাশ করে তিনি মানুষকে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করতেন।
মিথ্যা সংবাদ, ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আইনের হাতে কয়েকবার গ্রেফতার ও হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, কথিত ভূয়া রিপোর্টার বেলাল টার্গেট করতেন সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বিত্তশালীদের। প্রথমে মিথ্যা ও কুৎসিত সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করতো। যদি চাহিদামতো টাকা না পেত, তাহলে মিথ্যা বানোয়াট মিশিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করে সংবাদ প্রকাশ করতেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তার কারণে অনেকে জেল খেটেছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন, পরিবার ভেঙেছে।
স্থানীয় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জবানীতে জানা যায়, “এই ছেলেটা আমাদের এলাকার কলঙ্ক। আমরা অনেক আগেই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছিলাম, কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কিছুই হয়নি। এবার জনতার বিচার হয়েছে।”
গণপিটুনির ঘটনা ও পুলিশের মন্তব্য
সম্প্রতি চাঁদাবাজির সময় জনতার হাতে ধরা পড়লে বেলালকে ঘিরে ফেলেন স্থানীয় মানুষ। উত্তেজিত জনতা প্রথমে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে, কিন্তু বেলাল পালানোর চেষ্টা করলে শুরু হয় গণধোলাই। পুলিশে খবর দেওয়া হলে, থানার ওসি সাংবাদিকদের জানান:
“বেলাল কোনো বৈধ সাংবাদিক নন। তার নামে আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ রয়েছে—প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইল, ও ভুয়া মামলা দিয়ে টাকা আদায়ের মতো গুরুতর অপরাধ। আমরা তদন্ত শুরু করেছি।”
বেলাল ঘটনার পরপরই নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে বিএনপির একজন নেতার নাম নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়দের মতে, এটি ছিল দোষ চাপিয়ে নিজেকে বাঁচানোর একটি নাটক। তার এই অপপ্রচারে আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা।
বাঁশখালীর সাধারণ জনগণ এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বেলালের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করা হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এতোদিন ধরে এই প্রতারক কিভাবে একের পর এক মানুষকে হয়রানি করে গেছে—এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কেন তাকে গুরুত্ব দেয়নি।